Wednesday, May 20, 2020

করোনা ও আপনি

করোনা ও আপনি

আমার ভারতবর্ষ আজ অতি গণতান্ত্রিক আর এই অতি গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষে কিছু মানুষ না মানবো না এই চিন্তা ভাবনার ভাবনায় নিজেকে অলংকৃত করার চেষ্টা করেন যাতে গায়ে একটা বেশ বুদ্ধিজীবী বুদ্ধিজীবী গন্ধ বের হয়।
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশের প্রধানের বিরোধী কোন বক্তব্য ছবি ভিডিও পোস্ট না করলে ভাবেন আমিও বোধহয় জয় গোস্বামী অথবা অপর্ণা সেন দের সমগোত্রীয় হলাম না । আবার কিছু মানুষের মধ্যে আইন ভাঙার প্রবণতা রয়েছে বা তৈরি হচ্ছে তার উপর শাখের করাত  ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের। যাকে অনেকে ধর্মের শত্রু বলে ভাবতে শুরু করেছেন।
আমার এই লেখা পড়ার পর আমি জানি অনেকেই বিভিন্ন কমেন্ট করবেন এতে আমার বাবা মা বা পূর্বপুরুষরা উদ্ধার না হলেও আমার সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক রং চেনার চেষ্টা করবেন সে বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই।আর এতে আমার কিছু যায় আসে না ।
ভূমিকাটা বড্ড বেশি করে ফেললাম এবার আসি মূল কথায়। আজকে আমার লেখার মূখ‍্য উদ্দেশ্য 21 দিনের লকডাউন ,কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের নির্ধারিত নীতি ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। প্রথমেই আসি 21 দিনের লকডাউন এর প্রসঙ্গে।
প্রশ্নটা হল 21 দিনের লকডাউন আমরা কি মানছি ? নাকি সুন্দর পাজামা-পাঞ্জাবী পরে প্রতিদিন বাজার করতে বেরোচ্ছি ভাবটা এমন প্রতিদিন বাজার করব এবং টাটকা শাক-সবজি মাছ-মাংস কিনব! আবার দেখুন মাংসের দোকানে 700 টাকা কেজি হলেও তা কিন্তু পড়ে থাকছে না। কিন্তু পাশে বসে থাকা টোটো চালক ধনঞ্জয় সে কিন্তু লকডাউনে ধরা পড়েছে । কিন্তু আপনি ধরা পড়েননি তাই ইনজয় করে যাচ্ছেন।
আবার অনেকের ধারণা বাজার করলে করোনা হয় না বা আমার অন্তত করোনা হবে না । আমার শরীর স্বাস্থ্য খুবই সুগঠিত এবং আমার ভগবান অথবা আল্লাহ আমার সহায় রয়েছে। অথবা করোনা একমাত্র তাদেরই হবে যারা ধর্ম মানে না অথবা ধর্মবিদ্বেষী ।
এবার আসি প্রধানমন্ত্রী কিছু বক্তব্য সম্পর্কে। যেদিন প্রথম জনতা কার্ফু হল সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন বিকেলবেলায় আমরা সবাই যার কাছে যা আছে ঘন্টা, থালা না থাকলে হাততালি দিয়ে করোনা সৈনিকদের  সম্মান জানাবো। কিন্তু এখানেও বিরোধিতা। বিরোধিতা কি নিয়ে? নাকি হাততালি দিয়ে করোনা কে তাড়ানো যাবে না। এই নিয়ে নানা বক্তব্য ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপে আমরা দেখতে পেলাম।
এবার আসি প্রধানমন্ত্রীর পরের বক্তব্য নিয়ে। কি বললেন 5 ই এপ্রিল নটায় নয় মিনিটের জন্য আমরা আলো নিভিয়ে মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালাবো।
দেখুন এখানেও বিরোধিতা। কারণ এই সমস্ত মানুষদের বিরোধিতা করতেই হবে এবং বিরোধিতা করার জন্যই এদের জন্ম হয়েছে ভুন্ডুল রাশিতে । মানবো না এই কারনে ।নাকি এতে ধর্মের সুড়সুড়ি রয়েছে!
আচ্ছা বলুন তো আমরা দেওয়ালিতে কি প্রদীপ জ্বালাই না ? সবেবরাতের দিনে কি আমাদের মুসলমান ভাইয়েরা বোনেরা বারান্দায় মোমবাতি জ্বালায় না।গির্জাতে খ্রিস্টান মানুষেরা মোমবাতি কি কোনদিন  জ্বালায় নি ?
নাকি আমরা ভুলে গেছি কলকাতার রাস্তায় বিদ্বজনদের মোমবাতি মিছিল ! নাকি সেখানে শুধু হেঁটেছিল কিছু বিশেষ ভাই-বোনেরা।
নির্ভয়া এর বিচার চেয়ে আমরা তো মোমবাতি জ্বালিয়েছি। মোমবাতি জ্বালিয়ে আত্মার শান্তি কামনা করেছি তাপসী মালিকের জন্যে ও।
কিন্তু আজকে এত দ্বিধা কেন ? কেন এত কুন্ঠিত বোধ করছি বাড়ির ছাদে, বারান্দায় কিংবা ব্যালকনিতে একটা প্রদীপ কিংবা মোমবাতি জ্বালাতে।
আমরা কি পারি না করোনা আক্রান্ত যে সহ নাগরিকরা আমাদের মধ্যে নেই তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করতে ।
আমরা কি পারিনা যেসব স্বাস্থ্য কর্মী পুলিশকর্মী, ব্যাঙ্ক কর্মী মুদিখানার দোকানদার ,বাজারের সবজি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা যারা করোনার সংক্রমণের ভয় থাকা সত্বেও প্রতিদিন আমাদের এই পরিস্থিতিতে সেবা করে যাচ্ছেন।
আমরা কি এটাও পারিনা ? যে সমস্ত করোনা রোগী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে যাচ্ছেন তাদের আর একটু ভরসা দিতে আমরা তোমাদের পাশে আছি বন্ধু !আছি তোমার পরিবারের সঙ্গে।
আসুন না আজকে যারা প্রদীপ জ্বালাতে পারলেন না । তারা একবার অন্তত প্রদীপ জ্বালায় । এর জন্য কোনো নিঘন্ট তিথি লাগে না । লাগে না কাউর অনুরোধ । অন্তত এই জন্য এই কাজটি করি যাতে সবার মধ্যে একটা ভরসার জায়গা তৈরি হয় হ্যাঁ আমরা রয়েছি সবার সঙ্গে। সবাই আমরা একটা প্রদীপ জ্বালি আর উচ্চস্বরে না গাইতে পারি অন্তত মনে মনে গুনগুন করে গাই–
কিশোর কুমারের সেই বিখ্যাত হিন্দি গান।
দ্বিয়ে জ্বলতে হে।
ফুল খিলতে হে ।
বরি মুসকিল সে ,মগর

দুনিয়া মে দোস্ত মিলতে হে ।

আর যারা প্রদীপ জ্বালাতে পারলেন না তারা অন্তত ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপে আর আগুন জ্বালাবেন না।
লেখা শেষ করতে করতে আরেকটা সুখবর দিই । সেটা হচ্ছে ভারতবর্ষের কোন জায়গায় গ্রিড বিপর্যয় হয়নি অর্থাৎ ব্ল্যাক আউট হওয়ার সম্ভাবনা আর নেই। শুধুমাত্র মনের মধ্যে কোন ব্ল্যাকআউট রাখবেন না। সরকার ও প্রশাসনের কথা মেনে চলুন ঘরে থাকুন।

Sunday, May 17, 2020

"নানা জায়গায় নানা সম্পদ" Class V

"নানা জায়গায় প্রকৃতির নানা সম্পদ"

ক্লাস : পঞ্চম শ্রেণি । পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সিলেবাস অনুযায়ী।


পশ্চিমবঙ্গের সম্পদ
নানা জায়গায় প্রকৃতির নানা সম্পদ

তোমরা যারা ক্লাস ফাইভে পড়ো তোমাদের
"আমাদের পরিবেশ" বইতে পরিবেশ ও সম্পদ চ্যাপ্টারের অন্তর্গত একটি চ্যাপ্টার এর নাম
"নানা জায়গায় প্রকৃতির নানা সম্পদ"।
এই চ্যাপ্টার সম্পর্কে আলোচনা করার আগে চ্যাপ্টারের যে নাম রয়েছে "নানা জায়গায় নানা সম্পদ" এর অর্থ টা আমরা একটু বুঝে নেব। দেখো নানা জায়গা মানে আমাদের পৃথিবী তারমধ্যে আমাদের প্রিয় ভারতবর্ষ অবশেষে আমাদের রাজ্য ।এই রাজ্যের তথা ভারত বর্ষ বা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় নানান সম্পদ পাওয়া যায়। এবার তোমাদের মধ্যে একটা প্রশ্ন জানতে ইচ্ছা করছে সেটা হলো 
সম্পদ কাকে বলে ?
সম্পদ হলো যা মানুষের কাজে লাগে অর্থাৎ সেটা কোন বস্তু বা পদার্থ হতেও পারে আবার নাও হতে পারে কিন্তু তার একটা চাহিদা থাকতে হবে তবেই তাকে বলবে সম্পদ।
যেমন ধরো কয়লা একটি বস্তু আমাদের কাজে লাগে তাই সম্পদ আবার আমাদের শিক্ষা দীক্ষা জ্ঞান এইগুলো কিন্তু কোন বস্তু বা পদার্থ নয় কিন্তু এইগুলোও সম্পদ।

এবার আমরা জেনে নেব 
পশ্চিমবঙ্গে কিকি সম্পদ পাওয়া যায় ?
এবং 
এই সম্পদ গুলো কোথায় কোথায় পাওয়া যায়?
edutake tutorial
পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান
এই হল আমাদের প্রিয় ভারতবর্ষ এবং তার মধ্যে এটা আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ  ।
খনিজ সম্পদ উত্তোলনে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য ।পশ্চিমবঙ্গের যে খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় তার 99%ই হলো কয়লা ।
আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কয়লা ছাড়াও যে সম্পদ গুলো পাওয়া যায় তার নাম হলো আকরিক লোহা ,বিভিন্ন প্রকার পাথর ,চুনাপাথর ,ডলোমাইট, ফায়ার ক্লে, চিনামাটি, তামা, এবং অল্প পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল ।
এছাড়া পার্বত্য মালভূমি অঞ্চল ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ বনভূমিও সম্পদের উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি।



এবার আলোচনায় আসি যে -পশ্চিমবঙ্গের কোথায় কোথায় কি কি সম্পদ পাওয়া যায় ?

পশ্চিমবঙ্গে যা খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই কিন্তু কয়লা ।
কয়লা উত্তোলনের পশ্চিমবঙ্গ ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য। বর্ধমান, রানীগঞ্জের মোটামুটি 228 টি কয়লা খনি থেকে এই কয়লা উত্তোলনের কাজ করা হয়।এছাড়া উন্নত বিটুমিনাস কয়লাও পাওয়া যায় রানীগঞ্জ ,সাঁওতালডিহি , কুলটি, বরাকর প্রভৃতি অঞ্চলে।
এছাড়া দার্জিলিংএ লিগনাইট কয়লার খনিও আছে।
বাঁকুড়ার মেজিয়া ও বীরভূমের মোহাম্মদ বাজারের পাওয়া যায় চিনামাটি ।
সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত চুনাপাথর বাঁকুড়া , পুরুলিয়া , দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতে খনন করা হয় । 
এছাড়া তামার খনি আছে জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংয়ে । 
বর্ধমান, পুরুলিয়া, বীরভূম এবং দার্জিলিংয়ে স্বল্প পরিমাণে নিম্নমানের লোহা খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। 
অল্পবিস্তর ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায় ঝাড়গ্রাম অঞ্চলে, পশ্চিম মেদিনীপুর , পুরুলিয়া এবং বর্ধমানে।
ডলোমাইটের উত্তোলন করা হয় ডুয়ার্স ও জলপাইগুড়ির অঞ্চলে । 

এতক্ষণ যে সম্পদগুলোর আলোচনা করছিলাম সবগুলোই কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদের অন্তর্গত এবং এগুলোকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে।

এছাড়া আরো অনেক প্রকার সম্পদ আছে যেমন ধরো অর্থনৈতিক সম্পদ ,দেশীয় সম্পদ আন্তর্জাতিক সম্পদ প্রভৃতি।
যেমন ধরো সমুদ্র এটা কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে পড়ে।
আবার বনভূমি, সমুদ্রের মাছ এই সম্পদগুলো কে বলে পুনর্ভব সম্পদ কারণ এই সম্পদগুলো কোনদিন  ফুরিয়ে যাবে না যেমন কয়লা একটি গচ্ছিত সম্পদ এই সম্পদ একদিন  ফুরিয়ে যেতে পারে।
তেমনি ধরো সূর্যকিরণ বাতাস এইগুলো কিন্তু অফুরন্ত সম্পদ এমনকি যে মাটিতে তুমি দাঁড়িয়ে আছো বা যার ওপর আমাদের সোনার ফসল ফলছে সেই মাটিও কিন্তু সম্পদের উদাহরণের মধ্যেই পড়ে ।

তোমরা ওপরের আলোচনা থেকে সম্পদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে জানলে আর এটাও জানলে যে সব সম্পদ কিন্তু একই জায়গায় পাওয়া যায় না ।এই সম্পদগুলো বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ।মানুষ এইগুলোর খোঁজ করে ,এইগুলো কে কাজে লাগায় এক্ষেত্রে মানুষকে সহায়তা করে মানুষের শিক্ষা জ্ঞান বুদ্ধি প্রযুক্তি অর্থাৎ মানুষের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি প্রভৃতি ।মানুষের এই জ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্বারাই কিন্তু নতুন নতুন সম্পদের সৃষ্টি হয় এবং আমরা সহজভাবে ব্যবহার করতে পারি।
এবার তোমাদের এই সম্পদ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করব সেগুলো উত্তর করে আমাকে পাঠিয়ে দাও।

1)সম্পদ কাকে বলে?
2) মাটি কেন সম্পদ ?
3) পশ্চিমবঙ্গের কোথায় লালমাটি দেখা যায়?
4) লালমাটি অঞ্চলে কেন ধান চাষ হয় না?
5) লালমাটি অঞ্চলে কি আছে যে মানুষের কাজে লাগে?
6) পাহাড়ি অঞ্চলের শক্ত পাথর দিয়ে আমরা কি কি কাজ করতে পারি?
7) কার্শিয়াং অঞ্চলের কি রকম ভূমিরূপ দেখা যায়?
8) কার্শিয়াং অঞ্চলে কি ফসল চাষ করা হয়?
9) কোথায় চা বাগান রয়েছে?
10) ভূমি বা জঙ্গলকে কেন আমরা সম্পদ বলবো?
11) পশ্চিমবঙ্গের কোথায় কোথায় কয়লা পাওয়া যায়?
12) ইট ভাটার ইট পোড়ানোর জন্য আমরা কোন সম্পদ ব্যবহার করি?
13) প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে?
14) কয়লা সম্পদের চারটি ব্যবহার লেখ?
15) ধান চাষ করতে গেলে কিরকম জমির প্রয়োজন?
16) কয়লা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে আর কি কি সম্পদ পাওয়া যায়)
17) কয়লা উত্তোলনের পশ্চিমবঙ্গের স্থান কত?
18) তোমার বাড়ির আশেপাশে কোন সম্পদ পাওয়া গেলে তার নাম লেখ।
19) সূর্য কিরণ একটি কি সম্পদ?
20) কয়লা কি ধরনের সম্পদ?


Tuesday, May 12, 2020

প্রজাতন্ত্র দিবস ও আমরা

প্রজাতন্ত্র দিবস ও আমরা
রাজেশ চ্যাটার্জী


(এই লেখাটির উপরের অংশ আমার সম্মানীয় শিক্ষক ও শিক্ষিকারা সবাই জানেন মাঝের অংশ থেকে পড়লে আপনি সমৃদ্ধ হবেন এই এই ধারনা আমার ভুলও হতে পারে।)

আজ ২৬ শে জানুয়ারি ২০২০ সাল। এটি ভারতের ৭১তম প্রজাতন্ত্র দিবস বা রিপাবলিক ডে ।
ভারতের তিনটি জাতীয় দিবসের মধ্যে একটি হল প্রজাতন্ত্র দিবস এবং এই সঙ্গে জেনে নেওয়া দরকার অন্যান্য জাতীয় দিবস গুলি হল স্বাধীনতা দিবস এবং গান্ধী জয়ন্তী।

আমরা জানি ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ এ ভারত স্বাধীন হল। কিন্তু দেশের প্রধান হিসেবে তখনও রয়ে গিয়েছিলেন ষষ্ঠ জর্জ এবং লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন ছিলেন এর গভর্ণর জেনারেল। তখনও দেশে কোনো স্থায়ী সংবিধান তৈরি করা যায় নি ; ঔপনিবেশিক ভারত শাসন আইনে সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়েই জোড়াতালি দিয়ে দেশ শাসনের কাজ কোনমতে চলছিল। তাই দেশ শাসনে পরিপূর্ণতা আসছিল না কারণ ভারতের বিভিন্নতা, বহু ভাষা, ধর্ম, জাতি ও সংস্কৃতির দেশ। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ এবং ভারতের একটি নিজস্বতা আনার জন্য ১৯৪৭ খ্রিঃ ২৮শে আগস্ট একটি স্থায়ী সংবিধান রচনার জন্য ড্রাফটিং কমিটি গঠন করা হয় ভীমরাও রামজি আম্বেডকরের নেতৃত্বে । ড.আম্বেডকর ছাড়াও এই কমিটিতে আরও ছয় জন সদস্য সহ ৩০৮ ছিলেন। 
এই কমিটি একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করে গণপরিষদে জমা দেয় তারিখ টা ছিল ৪ঠা নভেম্বর ১৯৪৭ । গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার আগে ২ বছর, ১১ মাস, ১৮ দিন ব্যাপী সময়ে গণপরিষদ এই খসড়া সংবিধান আলোচনার জন্য ১৬৬ বার অধিবেশন ডাকা হয় । এই সমস্ত অধিবেশনে জনসাধারণের প্রবেশের কোন বাধা ছিল না । বহু বিতর্ক ও কিছু সংশোধনের পর ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৫০ এ গণপরিষদের ৩০৮ জন চূড়ান্ত সংবিধানের হাতে-লেখা একটি ইংরেজি ও অপরটি হিন্দি নথিতে স্বাক্ষর করেন। এর দু'দিন পর সারা দেশব্যাপী ভারতের নিজস্ব এই সংবিধান কার্যকর হয়। যদিও এই সংবিধানে বৃটেন এবং আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের যথেষ্ঠ ছায়া পাওয়া যায় তবুও এই সংবিধান আমাদের তথা ভারতের একান্ত নিজস্ব সংবিধান।
এই দুটি দেশ ছাড়া আর যে সব দেশের অনুপ্রেরণা পাওয়া যায় আমাদের এই সংবিধানে সেই দেশগুলি হল আয়ারল্যান্ড ,অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ,ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।আর জার্মানি থেকে পাওয়া গিয়েছে ৩৫৬ ধারার অনুপ্রেরণা।
এখন প্রশ্ন হল ২৬শে জানুয়ারি কেন প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করা হয়?
এর কারণটি হল-
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় গণপরিষদ সংবিধান কার্যকরী হলে ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
কিন্তু ১৯৪৯ সালে ২৬ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক ভারতের সংবিধান অনুমোদিত হয়। ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে সংবিধান কার্যকর করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ ১৯৩০ সালে ঐ একই দিনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কর্তৃক পূর্ণ স্বরাজের সংকল্প ঘোষিত ও গৃহীত হয়েছিল।এই গুরুত্বের জন্য ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস
 অপরদিকে ২৬ শে নভেম্বর পালন করা হয় সংবিধান দিবস হিসাবে।

এবার আসা যাক সংবিধানের প্রস্তাবনাটি সম্পর্কে ।
সংবিধানের প্রস্তাবনাটি ছিল এই রূপ-
“  আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম , গণতান্ত্রিক ,সাধারণতন্ত্ররূপে গড়িয়া তুলিতে এবং উহার সকল নাগরিক যাহাতে:
সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ;

চিন্তার, অভিব্যক্তির, বিশ্বাসের, ধর্মের ও উপাসনার স্বাধীনতা ;

প্রতিষ্ঠা ও সুযোগের সমতা

নিশ্চিতভাবে লাভ করেন;

এবং তাঁহাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্য ও সংহতির আশ্বাসক বর্ধিত হয়।

তজ্জন্য সত্যনিষ্ঠার সহিত সংকল্প করিয়া আমাদের সংবিধান সভায় অদ্য, ২৬ নভেম্বর, ১৯৪৯ তারিখে, এতদ্দ্বারা
এই সংবিধান গ্রহণ, বিধিবদ্ধ এবং আমাদিগকে অর্পণ করিতেছি।”
পরবর্তীকালে ১৯৭৬ সালের সংবিধানের প্রস্তাবনাটি ৪২ তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আবার পরিবর্তন করা হয় এবং এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় সমাজতান্ত্রিক,ধর্মনিরপেক্ষ ও ভ্রাতৃভাব এই কথাটি।

সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জাতীয় রাজধানী নতুন দিল্লীতে কুচকাওয়াজ হয় রাষ্ট্রপতির আবাসস্থল রাষ্ট্রপতি ভবনের নিকটবর্তী রাইসিনা হিল থেকে রাজপথ বরাবর ইন্ডিয়া গেট ছাড়িয়ে। কুচকাওয়াজ আরম্ভ হওয়ার পূর্বে রাষ্ট্রপতি রাজপথের একপ্রান্তে অবস্থিত  ইন্ডিয়া গেটে শহিদ সৈন্যদের উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মারক অমর জওয়ান জ্যোতি-তে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।


প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেও প্রতিবছর এক বা একের বেশি অতিথি রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ করা হয়।
অতিথি রাষ্ট্র কে হবে তা নির্ধারিত হয় কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে।
ভুটান ও ফ্রান্স সবচেয়ে বেশি বার (চার বার) আমন্ত্রিত হয়েছে, আর তাদের পরেই আছে মরিশাস , সোভিয়েত ইউনিয়ন বা বর্তমান রাশিয়া এবং ব্রাজিল: শেষোক্ত তিন দেশই আমন্ত্রিত হয়েছে তিন বার করে।
১৯৫০ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রথম ও প্রধান অতিথি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি সুকণ্য এবং 2000 সালে ৫০তম বর্ষে প্রধান অতিথি ছিলেন নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি ওলুসেগুন ওবাসাঞ্জো ।
এমনকি ২০১৫ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।
 এছাড়া ২০১৮ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে সবথেকে বেশি রাষ্ট্রপ্রধানরা এসেছিলেন ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে এখানে আশিয়ান দেশগুলির অন্তর্গত রাষ্ট্রপ্রধানরা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে এসেছিলেন।
২০২০ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হয়ে এসেছেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি জাহির বল সোনারো।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো মোট তিনবার প্রজাতন্ত্র দিবসে কোন রাষ্ট্রপ্রধান কে আমন্ত্রণ করা হয়নি । সাল গুলি হল ১৯৫২, ১৯৫3 এবং ১৯৬৬ ।

এবার আমরা জানবো প্রজাতন্ত্র দিবসে কি কি অনুষ্ঠান পালিত হয়।
প্রজাতন্ত্র দিবসে অনুষ্ঠান সূচনা হয় জাতীয় সংগীত দিয়ে এবং এর সমাপ্তি ঘটে সারে জাহা সে আচ্ছা এই গানটির মাধ্যমে।
প্রজাতন্ত্র দিবসে তিন বাহিনী যথা নৌবাহিনী , বায়ুবাহিনী ও স্থলবাহিনী প্রধানরা উপস্থিত থাকেন এবং এই তিন বাহিনীর সৈনিকরা তাদের বিভিন্ন কার্যকলাপ প্রদর্শন করেন। 
এছাড়া ভারতের প্রায় সমস্ত রাজ্য এই প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে তাদের ট্যাবলো সহ অংশগ্রহণ করেন।
সেনাবাহিনীর বীর সৈনিকদের উৎকর্ষতা বিচার করার জন্য এই দিনে পরমবীর চক্র প্রদান করা হয়।
এই দিনে  সন্ধ্যায় বিশেষ অনুষ্ঠানে পদ্মশ্রী পদ্মবিভূষণ ও পদ্মভূষণ পুরস্কার দেয়া হয় সাহিত্য চিকিৎসক অভিনেত্রী নাট্যকর্মী রাজনীতিবিদ বিজ্ঞানী এবং খেলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে।

এবার আমরা জানবো ২৬ শে জানুয়ারির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-
 আমরা সবাই জানি প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান রাজপথে হয় কিন্তু ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানটা রাজপথে হতো না। অনুষ্ঠান চলত অরবিন্দ স্টেডিয়ামে যেটা বর্তমান ন্যাশনাল স্টেডিয়াম নামে পরিচিত এছাড়া কিংস্ওয়ে, লালকেল্লা, রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৫৫সাল থেকেই রাজপথেই এই প্যারেড অনুষ্ঠান হয় ওই সময় ওই রাস্তাটি কে বলা হতো কিংস্ ওয়ে ।
২৬ শে জানুয়ারির এই অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রপতির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হতে থাকে রাষ্ট্রপতির  ঘোড়সাওয়ার ও দেহরক্ষীদের দ্বারা জাতীয় পতাকার সম্মান দেয়া হয়। ওই সময় জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং ২১ টা বন্দুকের গোলা ছোড়া হয়।

প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠান আসলে তিন দিনের দীর্ঘ অনুষ্ঠান যেটি শেষ হয় ২৯ শে জানুয়ারি বীটিং রিট্রীট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।ভারতের সামরিক বাহিনীর তিন প্রধান শাখা ভারতীয় স্থলসেনা, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং ভারতীয় বায়ুসেনা এই রিট্রীটে অংশ নেয়। রাজপথের প্রান্তে ভারতের কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও রাষ্ট্রপতি ভবনের নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক ভবন দু'টির মধ্যবর্তী রাইসিনা হিল ও বিজয় চকে এই অনুষ্ঠানটি হয়।
 প্যারেডে যোগদানকারী প্রতিটা দল রাত্রি দুটো থেকেই তৈরি হয়ে যান এবং ভোর তিনটের সময় তারা রাজপথে চলে আসেন। কিন্তু এই প‍্যারাডে অনুশীলন আগের বছর জুলাই থেকেই শুরু হয়ে যায় এবং আগস্ট মাস পর্যন্ত তারা তাদের নিজস্ব কেন্দ্রে এই অনুশীলন সম্পন্ন করেন। ডিসেম্বর মাসে এরা সবাই দিল্লিতে চলে আসেন। কিন্তু ২৬ শে জানুয়ারি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগে তারা মোট ৬০০ ঘন্টা কঠিন অনুশীলন করেন।

প্যারেডে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গাড়ি ,যন্ত্র এবং অস্ত্রশস্ত্র অন্তত দশবার করে পরীক্ষা করা হয় ।যাতে ক্ষতিকর কোনো অস্ত্র বা গোলা না থাকে।

 ২৬শে জানুয়ারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য প্রতিটি দলের যে অনুশীলন হয় সেই অনুশীলনের সময় প্রত্যেকটা দল অন্তত ১২ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রাখে এবং ২৬ শে জানুয়ারি দূরত্ব কমে হয় ৯ ঘণ্টা এবং এদের যাত্রার গতিবেগ থাকে ঘন্টায় পাঁচ ঘন্টা ,যাতে সমস্ত দর্শনার্থীরা এই অনুষ্ঠান ভালো ভাবে উপভোগ করতে পারে ।

সমস্ত প্যারেডের যাত্রাপথে বিভিন্ন বিচারক মন্ডলী বসে থাকেন তারা ২০০ নম্বরের মধ্যে প্রত্যেক দলকে নম্বর দেন এবং সবশেষে সেরা দল কে পুরস্কৃত করা হয়।
প্যারেডের সবথেকে দৃষ্টিনন্দন অনুষ্ঠানটি হল বায়ুসেনা দ্বারা বিভিন্ন জেট প্লেনের উড়ান পদ্ধতি এবং এটির দায়িত্ব থাকেন পশ্চিমী বায়ুসেনার কমান্ডের কাছে। এখানে মোট ৪১ টি বিমান যোগদান করে।
 প্রত্যেক প্রজাতন্ত্র দিবসে  নিশ্চিত ভাবে Abide with me গানটি গাওয়া হয় কারণ এটি মহাত্মা গান্ধীর খুবই পছন্দের গান ছিল।
 প্যারেডের যোগদানকারী সৈনিকরা ভারতে তৈরি ইনসাস রাইফেল ব্যবহার করেন।
 আবার বিশেষ সুরক্ষা জওয়ানরা ইসরাইলের তৈরি টেগোর রাইফেল ব্যবহার করেন।

এই হল ২৬ শে জানুয়ারি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আমার একটি লেখা। তবে ঠিক লেখা নয় তথ্য জোগাড় করা ।
প্রতিবছর ২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করলেও এর মূল ভাবনা গুলি আমরা কখনো মনে রাখি না অথবা মনে থাকলেও এর প্রয়োগ গুলো আমরা সঠিক ভাবে করি না অথবা আমরা নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করি না। যা লেখা থাকে বছরের পর বছর ধরে সংবিধানের পাতায় এবং আমাদের বইয়ের পাতায় অথবা বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের বক্তব্যের মাঝে এবং আমাদের মনে বাস্তবে এর প্রয়োগ খুবই কম।

 উপরে যা আমি লিখেছি তা ইন্টারনেট ও বিভিন্ন বই থেকে সংগ্রহ করা তথ্যাবলী থেকে সংগ্রহীত । এই তথ্যাবলীগুলি যদি কোন ভুল থাকে আমাকে মার্জনা করবেন। এবং কমেন্টসের মাধ্যমে সঠিকটা লিখবেন আমি সংশোধন করার চেষ্টা করবো। কাউকে বিভ্রান্ত করা অথবা ভুল তথ্য পরিবেশন করা আমার উদ্দেশ্য নয়।
সবাই ভাল থাকবেন এবং অন্যকে ভাল রাখবেন ।
জয় হিন্দ । বন্দেমাতারাম ।

এশিয়া ( Asia)

এশিয়া ( Asia)

কাদের জন্য প্রয়োজনীয়: বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা ।

ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডের সপ্তম শ্রেণির জন্য

আজকের পড়ানো শুরু করার আগে তোমাদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করব।

বলতো

পৃথিবীর ছাদ কোন মালভূমিকে বলে ?
আমাদের স্থলভাগের উচ্চতম অংশের নাম কি ?
পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ সমভূমি কাকে বলে ?
অথবা পৃথিবীর বৃহত্তম বনভূমির নাম কি? 

এগুলোর উত্তর তোমাদের জানা থাকলে ব্লগের কমেন্ট সেকশনে উত্তর গুলো লিখে পাঠাও ।
এই প্রশ্ন গুলোর মধ্যে একটা কমনব্যাপার হল এইগুলো সবই এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।


Asia Tutorial for students
Asia
আমরা যদি পৃথিবীর মোট স্থলভাগকে তিনটি ভাগে ভাগ করি তাহলে সেই স্থল ভাগের এক ভাগ জুড়ে রয়েছে এই এশিয়া মহাদেশ ।এই মহাদেশের আয়তন এতই বড় যে যদি চারটে  ইউরোপ মহাদেশ একসঙ্গে মিলিয়ে দাও অথবা দেরখানা আফ্রিকা মহাদেশ একসঙ্গে জুড়ে দাও তাহলে যে আয়তন হবে সেই আয়তনই হল এশিয়া মহাদেশের আয়তন ।
স্বাভাবিকভাবেই এই মহাদেশের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে  ।
যেমন এই মহাদেশে রয়েছে সুউচ্চ পর্বত শ্রেণী।
 বিশাল বিশাল মালভূমি আর বহুদূর প্রসারিত সমভূমি ও মরুভূমি এবং তার সঙ্গে রয়েছে বহু উর্বর নদী উপত্যকা এইজন্যই মহাদেশকে বলা হয় চরম বৈশিষ্ট্যের মহাদেশ।
এবার আমরা জেনে নেব এই এশিয়া মহাদেশের এশিয়া কথাটি কিভাবে উৎপত্তি হয়েছিল।




  • এই এশিয়া মহাদেশ  শব্দটা এসেছিল গ্রিক সভ্যতা থেকে।
  •  আবার কেউ কেউ বলেন এশিয়া শব্দটি এসেছিল ল্যাটিন সাহিত্য থেকে ।
  • আবার কোথাও একথাও বলা হয়েছে  যে রোমান সভ্যতা থেকে নাকি এই এশিয়া কথাটি উদ্ভব হয়েছিল যার অর্থ ছিল অস্থিরতা ।
  • বিখ্যাত ধ্রুপদী লেখক প্লিনির বইতেও এশিয়া শব্দটি আমরা দেখতে পাই ।
  • তবে এশিয়ার শব্দটা যেভাবেই উদ্ভব হোক না কেন এশিয়া মহাদেশের কতকগুলি গুরুত্ব রয়েছে যেমন ধরো পৃথিবীর থার্টি পার্সেন্ট লোক এই এশিয়া মহাদেশেই বসবাস করে সিল্করুট ,মালাক্কা প্রণালী, টোকিও ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল আর একটু অন্যভাবে বলতে গেলে এশিয়া মহাদেশ কিন্তু হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ জৈন পারসিক শিখ কনফুসিয়াস প্রভৃতি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্মস্থান।

এবার এই মহাদেশের কিছু ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা বলি
যিশুখ্রিস্টের জন্মের 3500 থেকে 5000 বছর আগে এশিয়ার বড় বড় নদী গুলোর উপত্যাকায় অনেক নদীমাতৃক সভ্যতার জন্ম হয়েছিল ।
তোমরা হরপ্পা মহেঞ্জোদারো ও সিন্ধু সভ্যতার নাম তো অবশ্যই শুনেছো ।
সেগুলো কিন্তু এই মহাদেশের সিন্ধু নদের তীরে গড়ে উঠেছিল ।
তেমনি ধরো টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী উপত্যকায় উন্নত মেসোপটেমিয়া সভ্যতার উদ্ভব হয়েছিল ।
বর্তমানে যেখানে তুরস্ক এবং ইরাক রয়েছে সেখানেও কিন্তু সুমের সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ।
তাহলে তোমরা এশিয়া মহাদেশের কিছু হিস্টোরিক্যাল ইম্পর্টেন্স এর কথা শুনলে ।
Asia Tutorial for Students
Asia Latitude & Longitude

এবার আমরা জানবো এশিয়া মহাদেশে অবস্থান সম্পর্কে এই হলো আমাদের পৃথিবী ।এই পৃথিবীর মধ্যে যে সাতটি মহাদেশ রয়েছে তারই মধ্যে অন্যতম আমাদের এশিয়া মহাদেশ ।

যদি এর আমরা অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমা গত অবস্থান লক্ষ্য করি তাহলে আমরা দেখতে পাব এটি 1 ডিগ্রি 16 মিনিট দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে 77 ডিগ্রি 44 মিনিট উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত বৃস্তিত এবং 170 ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা থেকে 26 ডিগ্রী পূর্ব  দ্রাঘিমা পর্যন্ত বৃস্তিত । আমরা অবস্থান সম্পর্কে জানলাম এবার জানব এশিয়া মহাদেশের সীমা কত দূর বিস্তৃত অর্থাৎ এর সীমানা ।
এই মহাদেশের পূর্ব দিকে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগর পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর কাস্পিয়ান সাগর উত্তর সুমেরু মহাসাগর ও দক্ষিণ ভারত মহাসাগর।

পৃথিবীর সবথেকে বড় এই মহাদেশের আয়তন 44 লক্ষ্য 57 হাজার 900 বর্গ কিলোমিটার।
এখানে আরেকটা জিনিস তোমরা মনে রাখবে সেটা হল এশিয়া মহাদেশর পশ্চিম দিকের সীমায় আরেকটি মহাদেশ শুরু হচ্ছে তার নাম ইউরোপ। এই দুই মহাদেশের মাঝে রয়েছে ইউরাল পর্বত এবং ইউরাল নদী।
 আবার এশিয়া ও আফ্রিকাকে আলাদা করেছে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল । 
পৃথিবীর বৃহত্তম এই এশিয়া মহাদেশের দেশের সংখ্যাও কিন্তু বেশি এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট 49টি দেশ রয়েছে । এসো এই দেশগুলোর নাম আমরা একবার চোখ বুলিয়ে নিই। এই দেশগুলো যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে এই দেশ গুলির কিছু বিখ্যাত বিখ্যাত শহর যেমন দিল্লি-কলকাতা বেজিং টোকিও করাচি লাহোর প্রভৃতি।
আর এই বৃহত্তম মহাদেশে মোট জনসংখ্যার পরিমাণ 4,560,667,108  যা প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 100 জন লোক বাস করে।


এবার আমরা জানবো এশিয়া মহাদেশের কি রকম জলবায়ু রয়েছে তোমরা নিশ্চয়ই জানো কোন অঞ্চলের জলবায়ু পার্থক্যের কারণ প্রধানত হয়ে থাকে অক্ষরেখার অবস্থান উচ্চতার তারতম্য ,আর সেই অঞ্চলটি  সমুদ্র থেকে কত দূরে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে।
 এশিয়া মহাদেশ যেহেতু একটি বড় মহাদেশ এবং এই তিনটি বৈশিষ্ট্য চরম ভাবে থাকার কারণে এখানকার জলবায়ু কিন্তু বৈচিত্র ধরনের এখানে প্রধানত যে জলবায়ু গুলো  লক্ষ্য করা যায় সেগুলো হল নিরক্ষরেখা বরাবর প্রধানত নিরক্ষীয় জলবায়ু ,এছাড়া মৌসুমী জলবায়ু, আবার চীন জাপানে চীন দেশীয় জলবায়ু আবার এশিয়া মহাদেশের ভূমধ্যসাগরে পাশে যে সমস্ত দেশ যেমন তুরস্ক ইসরাইল প্রভৃতি দেশে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু লক্ষ করা যায়
আবার এশিয়া মহাদেশের একেবারে পশ্চিম দিকে যেখানে আরবের দেশগুলি রয়েছে এমনকি পাকিস্তান এবং ভারতের কিছু জায়গা উষ্ণ মরু জলবায়ু দেখা যায়। আবার এশিয়া মহাদেশের আরো উত্তরে সুমেরু বৃত্তের কাছাকাছি আমরা সাইবেরিয়া জলবায়ু দেখতে পাবো।
তাহলে এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু সম্পর্কে আমরা জানলাম এর সঙ্গে আরেকটা বিষয় কিন্তু অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত  সেটা হলো 
স্বাভাবিক উদ্ভিদ যেমন ধরো আমি আগে বলেছি নিরক্ষীয় জলবায়ুর কথা।
এই জলবায়ু অঞ্চলে  যেসব উদ্ভিদ জন্মায়  তাকে নিরক্ষীয় স্বাভাবিক উদ্ভিদ বলবে ।নিরক্ষীয় অঞ্চলে আমরা জানি সারা বছর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে এখানে  চিরহরিৎ উদ্ভিদ জন্মায় ।এখানকার প্রধান প্রধান উদ্ভিদ গুলি হল রোজ উড আয়রন উড সেগুন রবার সিঙ্কোনা ।
মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে চিরসবুজ ও পর্ণমোচী অরণ্য দেখা যায় । এখানকার প্রধান প্রধান উদ্ভিদ গুলি হল আম জাম মেহগিনি বাস শাল সেগুন বট শিশু।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে যে গাছ গুলো জন্মায় তা হল  জলপাই আঙ্গুর লেবু কর্ক অক ও অলিভ অয়েল । 
আবার মরু অঞ্চলে প্রধানত কাটা জাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়  যেমন ধরো ক্যাকটাস ফনিমনসা ।
পরের ভিডিওতে এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো এর জন্য এডুটেক টিউটোরিয়াল চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখবে ।

আজকের এই ভিডিওতে আমি এশিয়া মহাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো না শুধু জানার জন্য কয়েকটা পর্বত এবং মালভূমির নাম জেনে নেব

যেমন পর্বত শ্রেনীর মধ্যে হিমালয় পর্বত শ্রেণী যার প্রধান শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট , কারাকোরাম সুলেমান হিন্দুকুশ প্রভৃতি।
 মালভূমির মধ্যে রয়েছে পামির মালভূমি ডেকানট্রাপ মালভূমি আরবের মালভূমি  ইন্দোচীন মালভূমি প্রভৃতি আর সমভূমির মধ্যে রয়েছে গাঙ্গেয় বদ্বীপ সমভূমি ইয়াংসিকিয়াং সমভূমি, সাইবেরিয়া সমভূমি মেসোপটেমিয়া সমভূমি প্রভৃতি।

আমরা পাহাড় পর্বত মালভূমি নাম শুনলাম এবং এই পাহাড় পর্বত মালভূমি থেকে সৃষ্টি হয় বেশিরভাগ নদী
এশিয়া মহাদেশের নদনদীগুলির প্রবাহ অনুসারে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি একটা হচ্ছে উত্তরদিক থেকে প্রবাহিত নদী আরেকটি হচ্ছে দক্ষিণ দিক থেকে প্রবাহিত নদী এবং সবশেষে পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত নদী । তোমরা ভিডিওতে এশিয়া মহাদেশের মানচিত্রের মধ্যে নদীগুলোর অবস্থান দেখে নাও।
এই মহাদেশের সবথেকে দীর্ঘতম নদীর নাম হচ্ছে ইয়াংসি কিয়াং । এই নদীটি কুয়েনলুন পর্বত এর দক্ষিনে  গলো ডান ডং পর্বত থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং চীন সাগরে এই নদী পতিত হয়েছে।

এবার আমরা জানবো এশিয়া মহাদেশের সম্পদ সম্পর্কে ।খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ এশিয়া মহাদেশ কারণ একদিকে যেমন এখানে আরব দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল পাওয়া যায় তেমনি ভারত এবং চীনে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং আকরিক লোহা ও কয়লা ।
এশিয়ার খনিজ তেল উৎপাদক অঞ্চল গুলো হল সৌদি আরব ইরান ইরাক কুয়েত সংযুক্ত আরব আমিরশাহী প্রভৃতি এবং সৌদি আরবের ঘাওয়ার বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেল উত্তোলন কেন্দ্র এবং সাফানিয়া বিশ্বের বৃহত্তম সামুদ্রিক তৈলখনি
এশিয়া মহাদেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ সেইজন্য এশিয়ার কয়েকটি দেশে বিখ্যাত বিখ্যাত শিল্পাঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে যেমন ধরো জাপানের টোকিও ইয়াকোহামা শিল্পাঞ্চল।

এই ব্লগে এশিয়ার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলাম পরবর্তীতে এই বিষয়গুলিকে নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করব।

আশাকরি ওপরের আমার এই ব্লগ টি পড়ে তোমরা এশিয়া মহাদেশ সম্পর্কে কিছুটা বুঝতে পেরেছ এরপরে তোমরা বইটা বেশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ো তারপরে
নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।

1) এশিয়া পৃথিবীর কততম বৃহত্তম মহাদেশ ?
2) এশিয়া মহাদেশে মোট দেশের সংখ্যা কয়টি ?
3) পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জনবহুল দেশ টির নাম কি?
4) নিরক্ষীয় বনভূমি এশিয়ার কোন কোন অঞ্চলে দেখা যায়?
5) ভারতবর্ষ এশিয়ার কোন জলবায়ুর অন্তর্গত ?
6) এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবথেকে বেশি কোন দেশে রয়েছে?
7)এশিয়ার বৃহত্তম শহরের নাম কি?
8)এশিয়ায় কোন কোন ধর্মাবলম্বী মানুষেরা বসবাস করেন?
9) এশিয়ার দীর্ঘতম নদীর নাম কি?
10) এশিয়ার দীর্ঘতম মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত?
11) এশিয়ার কোন নদী সবথেকে বেশি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
12) নিরক্ষীয় বনভূমির উদ্ভিদ গুলি কি কি কাজে ব্যবহৃত হয়?
13) জাপান এশিয়া মহাদেশের কোন দিকে অবস্থিত?
14) ইউরোপ ও এশিয়া কে বিভক্ত করেছে কোন নদী?
15) এশিয়াকে চরম বৈচিত্রের মহাদেশ বলা হয় কেন তার স্বপক্ষে পাঁচটি যুক্তি দেখাও।
16) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে জন্মায় ( চিরহরিৎ কাঁটাঝোপ পর্ণমোচী/ ম্যানগ্রোভ অরণ্য) ।
17) চিন সভ্যতার আঁতুড়ঘর কাকে বলে?
18) ল্যাভেন্ডার ও রোজমেরি জাতীয় উদ্ভিদ কোন জলবায়ুতে জন্মায়?
19) এশিয়ার দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমি গুলির নাম লেখ।
20) স্বর্ণ রেনুর নদী বলে (ইয়াংসিকিয়া/ ইনিসি/ হোয়াংহো )নদীকে।
21) পামির গ্রন্থি থেকে নির্গত দুটি পর্বতের নাম লেখ।
22) এশিয়ার উত্তর বাহিনী নদী গুলি বন্যা প্রবণ কেন?
23) বিশ্বের বৃহত্তম সামুদ্রিক তৈলখনি________।
24) ওপেক এর প্রধান উদ্দেশ্য কি?
25) তিব্বত মালভূমি কোন কোন পর্বতের মধ্যে অবস্থিত?
26) এশিয়ার সরলবর্গীয় বনভূমির অপর নাম কি?
27) তুন্দ্রা জলবায়ু স্বাভাবিক উদ্ভিদ হল (ম্যাপেল / উইলো /লাইকেন)।
28) ইয়াংসিকিয়াং অববাহিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণ গুলি কি কি?
29) এশিয়ার একটি অন্তর্বাহিনী নদীর নাম লেখ?
30) কোন কোন নদীর মিলিত প্রবাহের নাম শাত-ইল-আরব?
31) দেশ প্রদেশকে চীনের ধানের গোলা বলা হয়?
32) এশিয়ার সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান কোনটি?
33) চীন দেশে জলবায়ুতে_______ গাছ বেশি চোখে পড়ে।
34) এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু বৈচিত্রের তিনটি কারণ লেখ।
35) এশিয়া শীতকালীন বৃষ্টিপাত যুক্ত একটি দেশ হলো সৌদি আরব /সিরিয়া/ইরান/ থাইল্যান্ড।

করোনো সম্পর্কিত লেখা: সখা মায়া কারে কয় ?

সখা মায়া কারে কয় ?

সে কি কেবলই মিথ্যে ভয়।

আচ্ছা আমাদের মায়া কত রকমের হতে পারে?

এই পৃথিবীতে সবই মায়া।  আমি যে লিখছি এটাও মায়া। আর আমরা কেবল এর নিমিত্ত মাত্র !

সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডই মায়া।

তবে ইদানিং কালে এই মায়া খুবই মায়ায়িত করে চলেছে। আবার তা যদি হয় এই ২১ দিনের লকডাউন। 

অনেকেই হয়তো বলবেন আবার কুমিরের গল্প।

দেখুন এই ২১ দিনে কিছু মানুষ সত‍্যিই মায়ায়িত হয়েছে।

যেমন আলু পটলের মায়া ।

কচি লাউ আর চিংড়ির মায়া।

বাজার থেকে কেনা জ্যান্ত মাছের মায়া।

মেয়ের বাড়িতে সজনে ডাটা পাঠানোর মায়া।

সকাল সন্ধ্যে চা খাওয়ার মায়া ।

সন্ধ্যেবেলায় বাবলুর বাংলার মায়া।

চ্যাটাই পেতে তাস খেলার মায়া।

কিছু সমাজসেবা করেই সেলফি তোলার মায়া।

ব্যাংকে পাসবুক আপডেট করার মায়া।

একাউন্টে সরকার থেকে পাঠানো ৫০০ টাকার মায়া।

সবশেষে ,করোনার অনুভূতি পাওয়ার মায়া( জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী)

তবে আজকে আমি একঘেয়েমী মোদী ও মমতার ঘোষণা সম্পর্কে কিছু বলবো না। 

কারণ এরা পূজনীয় ব্যক্তিত্ব। এদের উপরে তোলা থাক।

এই  সম্পকীত লেখাটি আমার কমেন্টস  সেকশনে রয়েছে পারলে একবার পড়ে নেবেন।


আলু পটল টাটকা মাছের কথাও আজ বরং থাক ।এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে তারথেকে ফেকু ছোড়াছুড়ি হয়েছে আরও বেশি।


আজকে ৮ ই এপ্রিল। আজ সকাল বেলায় যখন আমি লিখতে বসেছি তখন ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। সারাবিশ্বে ১৫ লক্ষ। ভারতের মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৭০ । আর সারা বিশ্বে ৮৪ হাজার। জানি এর থেকে ঘন ঘন আপডেট আপনি পাচ্ছেন। সংখ্যার কমবেশি থাকতে পারে। যদি গড় হিসাব ধরি ভারতবর্ষে প্রতিদিন গড় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৪৫০। আর মাত্র ৮ দিন লকডাউন বাকি । লকডাউনের ২১ তম দিনে এই সংখ্যাটা পৌঁছাবে ১০০০০ বা তার থেকে আরও বেশি। আমার প্রিয় ভারতবর্ষ সারাবিশ্ব থেকে কিন্তু আলাদা নয় । সারা বিশ্বে যেভাবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে তার মধ্যে যে কোন একটি দেশকে যদি আপনি মডেল হিসেবে ধরেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন আমাদের আরো কতোটা সচেতন হওয়া দরকার। যদি আপনি আমেরিকাকে মডেল হিসেবে ধরেন তাহলে এপ্রিল মাসের  শেষে এই সংখ্যাটা আমাদের দাঁড়াবে ৫ লাখ।

 আর যদি ফ্রান্স-জার্মানিকে মডেল হিসাবে মনে করেন তাহলে সংখ্যাটা দাঁড়াবে ১২৫০০০। এই সংখ্যাগুলো যদি শতাংশ হিসেবে ভাবেন তাহলে কোথাও ২০০০ শতাংশ আবার  কোথাও ৮০০০ শতাংশ।

 এই দেশগুলোকে মডেল করবেন নাকি মডেল হিসাবে অনুসরণ করবেন এশিয়ারই আর একটি দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে। তাদের বৃদ্ধির হার মাত্র ১৩০ শতাংশ। এটা তখনই সম্ভব যখন আপনি সচেতন হবেন। 

আর এই সচেতনতার একমাত্র পরীক্ষা সোশ্যাল ডিসটান্সিং   এবং ফলাফলও সোশ্যাল ডিসটান্সিং।

আর এর জন্য কোন পয়সা লাগে না,  লাগে না কোন ওষুধ।

তবু আমাদের মায়া কিছুতেই কাটছে না!

আমি যখন বাড়ি থেকে বের হয় তখন আমার বউয়ের দুটি চোখ ছল ছল করে ওঠে। মা তার ইষ্ট দেবতাকে স্মরণ করে যাতে আমার শরীরের করোনার নজর না পরে। আমার পাঁচ বছরের ছোট্ট ছেলেটা হাত টেনে ধরে বলে বাবা আজ তুমি যেওনা।


 কারণ এই পরিস্থিতিতে আমিও একনিষ্ঠ সৈনিক। তবে সেটা ফুটবলের গোলকিপারের মত।

আমাকে প্রতিদিনই বাড়ি থেকে বের হতে হয়। মিশতে হয় কমপক্ষে ১০০ থেকে ২০০ মানুষের সঙ্গে।

প্রতিদিন আমার বন্ধুরা আমার সহকর্মীরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে কিরে ঠিক আছিস তো?

সবকিছু মেইনটেন্স করছিস তো?

থাক নিজের কথা। 

আর মাত্র ১৫ দিন ।তার পরে হয়তো অনেক কিছুই পাল্টে যাবে। অনেক হিসাব কিতাব, মায়া মমতা।

রাস্তাঘাট থাকবে। থাকবে বাড়ি ঘর। ব্যাংক, অফিস, স্কুল, হসপিটাল সবই থাকবে আগের মতই । শুধু থাকবে না কিছু মানুষ যারা খুব প্রিয়।

এবার হয়তো আপনার চোখের কোনায় একটুকু জল ছল ছল করছে! নাকি ভয় করছে ? সামলে নিন । 

ভরসা রাখুন, সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে চলুন। ঘরে থাকুন।

এবার কিছু আশার কথা বলি।

ভারতে এখনো পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪৭৪ জন রোগী এবং সুস্থ হওয়ার পথে আরও হাজার খানেক । বেশিরভাগ মানুষই সুস্থ হবেন। সুস্থ হবে আমাদের পৃথিবীও।

লেখা শেষ করার আগে আরও কয়েকটি মজার কথা শোনায় ।

এই করোনার আবির্ভাবে কিছু মানুষ বেশ কিছু জিনিস শিখেছে। যেমন কিভাবে নিজেকে পরিষ্কার রাখতে হয়।  হাত কিভাবে কুড়ি সেকেন্ড ধরে কচলে কচলে ধুতে হয়। হাঁচলে কাষলে হাতের বদলের হাতের কনুই দিয়ে কিভাবে তাকে ম্যানেজ করতে হয়। মুখে মাস্ক ও বাড়িতে তা তৈরি করার পদ্ধতি।

 এছাড়া কিছু ভাষা যেমন স্যানিটাইজার ,হ্যান্ডওয়াশ , হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন ,আইসোলেশন কোয়ারেন্টাইন।

বাড়িতে কেউ আসলে মিষ্টি করে তাকে বলে দেওয়া 

বাড়ির ভিতরে ঢুকবেন না একটু দূর থেকে কথা বলুন ,

জানেন তো চারিদিকে কি ঘটছে!

আর যেটা এক্কেবারে পেটেন্ট পেয়ে গেল সেটা হলো সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং।

যেটা ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় ফলাফল হিসাবে আগে থেকেই পটভূমি তৈরি ছিল।

এবং অবশ্যই যে গানটি হিট করে গেল সেটি হল

হেমন্ত মুখার্জীর--

তারে বলে দিও সে যেন আসে না

আমার ঘরে তারে বলে দিও।



শিক্ষক দিবস

শিক্ষক দিবস Teacher's Day আজকে শিক্ষক দিবস। আজকেই আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের জন্মদিন। রাষ্ট্রপতি হলেও তিনি একজন ...